শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সিলেটের পরিচিত মুখ নওয়াব আলী হাসিব খান, রাজনীতির সীমানা পেরিয়ে মানবতার ফেরিওয়ালা নথিপত্র রিসিভ হতেই আসামির টেবিলে: বিআরটিএ-তে ‘গোপন তথ্য পাচার’ সিন্ডিকেট, এডি ইমরানের বেপরোয়া হুমকি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন রাজ্জাক সিন্ডিকেটের বিষদাঁত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ অপরাধ ঠেকাতে ভিন্ন কৌশল: রেলের ‘সুরুচি ক্যাটারারস’ সিন্ডিকেটের নেপথ্য গডফাদার রাজ্জাকের থলের বিড়াল এবার প্রকাশ্যে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ রেলওয়ের ক্যাটারিং সেবার আড়ালে টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট, নেপথ্যে আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় সংসদ এর আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
নোটিশ
📢 নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 📢 দৈনিক মিডিয়া বাজ পত্রিকায় জেলা, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। ✅ আগ্রহী প্রার্থীদেরকে অনুরোধ করা হচ্ছে, তাদের সম্পূর্ণ সিভি (CV) নিচের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে অথবা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতে বলফ যাচ্ছে: 📧 ই-মেইল: editor.mediabuzz@gmail.com. 📱 হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৮৯৮২৯৪২৭৪।  🔒 সতর্কতা: উল্লেখিত ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বর ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যম বা নম্বরে যোগাযোগ করলে এবং তাতে কেউ প্রতারণার শিকার হলে, দৈনিক মিডিয়া বাজ কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

বোরো ধানের গোয়ালে তুলতে কিষান-কিষানীরা ব্যস্ত

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

 

সেই অন্ধকার গুছিয়ে আলোর দেখা মিললেই আবার অন্ধকার অবধি কিষান-কিষানির অবসরের সময় নেই। একদিকে ধান কাটা, অন্যদিকে চলছে ধান মাড়াই। একইসাথে চলে ধান সেদ্ধ ও শুকানো। এ ধরনের কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌলভীবাজারে হাওর পাড়ের কিষান-কিষানিরা।

সম্প্রতি জেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের বানেশ্রী, রায়পুর, জুমাপুর, কাদিপুর এলাকার যেদিকেই চোখ পড়েছে – সেদিকেই দেখা যায়, বোরো ফসল তোলার মহোৎসব চলছে। সেই সাথে সেদ্ধ ধানের মন কারানো বইছে সেদ্ধ ধানের গন্ধ।

স্থানীয়রা জানান, এখন হাওরের বুকে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী ধান মাড়াইয়ের খলা তৈরি করা হয়েছে। চাষিরা খেত থেকে ধান কেটে যার যার নির্দিষ্ট খলায় নিয়ে আসেন। এখানেই চলে মাড়াই, সিদ্ধ, শুকানো ও চাল তৈরি। পরে বাড়ি-ঘরে সেই চাল নিয়ে যাওয়া হয়।

উপজেলার কাদিপুর এলাকায় এ ধরনের একটি ধান মাড়াইয়ের খলায় গিয়ে দেখা যায়, ধান সেদ্ধ করতে ব্যস্ত চল্লিশোর্ধ্ব কিষানি সুমতী দাশ। তিনি বড় তিনটি পাতিলে ধান সাজিয়ে রেখেছেন। পরিমাপ মতো পানি ঢালছেন ধান ভেজানোর জন্য, একটু পর সেই ধানগুলো সেদ্ধ করা হবে।

কথাপ্রসঙ্গে তিনি জানান, এক সময় মা-দাদিরা বড় বড় মাটির হাঁড়িতে ধান সেদ্ধ করতেন। এখন সিলভার পাতিলে ধান সেদ্ধ করেন লোহার দিয়ে তৈরি অস্থায়ী চুলায়। বিকেলে লোহার দণ্ড দিয়ে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয় অস্থায়ী চুলা। জ্বালানি হিসেবে খড় ব্যবহার করা হয়। এক একটি পাতিলে ৪০ থেকে ৪২ কেজি ধান সেদ্ধ করা যায়। একটি পাতিলে ধান সেদ্ধ করতে সময় যায় ঘণ্টাখানেক।

তিনি বলেন, ধান সেদ্ধ দেওয়ার পর মাটিতে বিছানো ত্রিপাল ও বাঁশের চাঁটি কিংবা বিশেষ ধরনের তৈরি মাটির ‘খলা’য় ওই সেদ্ধ ধান শুকানো হয়। ধান শুকাতে রৌদ্রের তাপ অনুযায়ী ২/৩ দিন লেগে যায়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলে ধান শুকাতে সমস্যা হয়। রোদ যত বেশি ধানের জন্য তত ভালো।

কাদিপুর গ্রামের আরেক কিষানি বলেন, এমনিতেই আমাদের সারাদিন ব্যস্ত থাকতে হয়। বাড়ির পুরুষেরা ভোরে চলে আসেন ফসলের মাঠে। আর আমরা নারীরা দুপুরে ঘরের রান্নাবান্নার কাজ শেষে ধান শুকানো, খড় শুকানো ও ধান সেদ্ধ করে থাকি। এসব শেষ করতে করতে অনেক সময় রাত হয়ে যায়। পরের দিন সকাল থেকে আবার একইভাবে কাজ শুরু করি।

তিনি বলেন, সেদ্ধ ধান থেকে যখন চাল তৈরি হয়, তখন সারাদিনের কষ্ট ভুলে আনন্দে মন-প্রাণ ভরে উঠে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিষান-কিষানিরা ব্যস্ত সময় কাটালেও তাদের চোঁখে-মুখে নেই কোনো হতাশার ছাপ। হতাশার ছাপ থাকবে বা কেন? এই ব্যস্ততা যে তাদের আগামীর স্বপ্ন। ফসল ভালো হলে কৃষকের মুখে হাঁসি ফোঁটে আর সেই ফসল যদি ভালোভাবে ঘরে তুলতে পারেন, তবেই স্বার্থকতা। কষ্ট লাগবে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাই ভড়া মৌসুমে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *