রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবামূলক খাতকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা ‘সুরুচি ফাস্টফুড অ্যান্ড ক্যাটারারস’-এর লাগামহীন দুর্নীতি ও কালোবাজারির প্রথম পর্ব প্রকাশের পর চরম মরিয়া হয়ে উঠেছে চক্রের মূল হোতারা। অপরাধের সাজানো অন্ধকার জগতকে আড়াল করতে এবং সত্যের কণ্ঠরোধ করতে এবার সরাসরি সংবাদমাধ্যমের ওপর চড়াও হয়েছে এই সিন্ডিকেট।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর অপরাধ আড়াল করতে অদ্য ১৮ জুলাই রাত ৯:৩৯ মিনিটে সুরুচি ফাস্টফুডের মালিক আব্দুর রাজ্জাকের নির্দেশে সাজেদুল্লাহ প্রিন্স নামের এক ব্যক্তি পত্রিকার প্রধান সম্পাদককে মুঠোফোনে সরাসরি হুমকি প্রদান করেন। ফোন আলাপে উক্ত ব্যক্তি নিজেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর সদস্য বলে দাবি করে ক্ষমতার দাপট দেখানোর চেষ্টা করেন।
তবে ঘটনার পরপরই অনুসন্ধানী টিমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হলে বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের দায়িত্বশীল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সাজেদুল্লাহ প্রিন্স নামের এই ব্যক্তি আদতে কোনো ডিইউজে সদস্য নন। মূলত সাংবাদিকতার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা এবং আব্দুর রাজ্জাকের মতো অপরাধী সিন্ডিকেট ও কালোবাজারি ব্যবসায়ীদের ‘শেল্টার’ বা আইনি-বেআইনি সুরক্ষা দেওয়াই তার মূল পেশা। হুমকির সেই সমস্ত কথোপকথনের অডিও রেকর্ড অত্র পত্রিকার আর্কাইভে সুরক্ষিত রয়েছে, যা আইনগত পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব পাওয়া ‘সুরুচি ফাস্টফুড অ্যান্ড ক্যাটারারস’-এর বিরুদ্ধে ট্রেনের ভেতরেই বিশাল টিকিট কালোবাজারি ও চাঁদাবাজির চক্র গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই দুর্নীতির খবর যেন কোনোভাবেই গণমাধ্যমে না আসে, সেজন্য ম্যানেজার আকাশ অনুসন্ধানী টিমকে একাধিকবার ‘ম্যানেজ’ বা আপস করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে এবং প্রথম পর্বে সত্য সামনে আসায়, চক্রের গডফাদার আব্দুর রাজ্জাক এখন ভুয়া ডিইউজে নেতা সাজেদুল্লাহ প্রিন্সকে দিয়ে হুমকি-ধমকির মাধ্যমে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার নোংরা খেলায় মেতে উঠেছেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে—‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’। অথচ কালনী এক্সপ্রেসে আব্দুর রাজ্জাকের এই সুরুচি সিন্ডিকেট সেই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে।
একজন পেশাদার সাংবাদিকের ভুয়া পরিচয় দিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রধান সম্পাদককে হুমকি দেওয়ার এই ধৃষ্টতার পর ফুঁসে উঠেছে সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা। রেলওয়ের মাঠ পর্যায়ের সৎ কর্মকর্তা এবং সাধারণ যাত্রীদের দাবি—রেলওয়ের মতো পবিত্র রাষ্ট্রীয় সেবাকে কলঙ্কিত করা এই ক্যাটারিং চক্রের লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিল করা হোক। একই সাথে মূল হোতা আব্দুর রাজ্জাক, ম্যানেজার আকাশ ও হুমকিদাতা ভুয়া ডিইউজে সদস্য সাজেদুল্লাহ প্রিন্সসহ পুরো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
(এই সিন্ডিকেটের অন্ধকার জগতের আরও বিস্ফোরক তথ্য এবং রেলের কোন কোন অসাধু কর্মকর্তা এদের কাছ থেকে মাসোহারা পান, তা দেখতে চোখ রাখুন ৩য় পর্বে)