মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন
ক্ষমতা বা পদ-পদবির মোহ নয়, বরং তার উদার মানবিকতা ও সাহসিকতাই আজ তাকে গণমানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে দিয়েছে।
পুরো সিলেট বিভাগজুড়ে যার পরিচিতি এক গতিশীল ও বহুমুখী ব্যক্তিত্ব হিসেবে, তিনি নওয়াব আলী হাসিব খান। বিভিন্ন সময়ে নানামুখী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন এই নেতা। একাধারে দক্ষ সংগঠক, অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং সফল ব্যবসায়ী—যিনি নিজের চা বাগানের দেখাশোনার পাশাপাশি সমান তালে সামলান জনসেবা ও রাজনৈতিক মাঠ।
ক্রীড়াঙ্গন থেকে শুরু করে রাজনীতির রাজপথ—সবখানেই যার সরব উপস্থিতি, সেই নওয়াব আলী হাসিব খান সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে।
রাজনীতির মাঠে নওয়াব আলী হাসিব খান এক পরীক্ষিত নাম। গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও মৌলভীবাজার অঞ্চলে যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সবার আগে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। তবে এর সূচনা আরও আগে; বিএনপির প্রবীণ ও দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে তিনি সবসময় ছায়া হয়ে পাশে ছিলেন। দলের কঠিন সময়েও জাতীয়তাবাদী আদর্শের সাথে আপস করেননি, এখনও দলের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং বিপদে পাশে দাঁড়ানো তার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
রাজনীতি বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে হালে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হচ্ছেন তার মানবিক গুণাবলীর জন্য। করোনা মহামারীর পুরো সময়টায় অসহায় ও বিপন্ন মানুষের সেবায় নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত রেখেছিলেন নওয়াব আলী হাসিব খান। কখনো সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ও শীতের কম্বল বিতরণ, আবার কখনো কর্মহীন দরিদ্র মানুষের ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—প্রকৃত জননেতারা বিপদের দিনে পালিয়ে যান না, বরং সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। করোনার শুরু থেকেই রাজপথে থেকে তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে সেবা পৌঁছে দিয়েছেন।
নওয়াব আলী হাসিব খানের সাহসিকতা ও মানবিকতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মেলে গত কয়েক মাস আগে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার রবিরবাজার এলাকায়। সেখানে যখন কিছু দুষ্কৃতকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ভাঙার অপচেষ্টা চালায়, তখন কোনো কিছু না ভেবেই মানবতার ফেরিওয়ালা নওয়াব আলী হাসিব খান নিজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মন্দির রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। তার এই সাহসিক পদক্ষেপ কেবল একটি মন্দিরই রক্ষা করেনি, বরং এলাকায় হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য ও উজ্জ্বল নজির স্থাপন করেছে।
“বাকি জীবনটা দুস্থ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করব”—নওয়াব আলী হাসিব খান যা বলেন, তা-ই করেন। কথা ও কাজের মিল রাখা এবং নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তিনি সর্বদা অটল। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি আজ হয়ে উঠেছেন সিলেট বিভাগের অবহেলিত ও সাধারণ মানুষের আস্থার এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।