বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ
গণপূর্তের প্রকৌশলী বদরুল আলম খানের শতকোটির ‘দুর্নীতি সাম্রাজ্য’, মুখ খুললেন স্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন রাজ্জাক সিন্ডিকেটের বিষদাঁত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ অপরাধ ঠেকাতে ভিন্ন কৌশল: রেলের ‘সুরুচি ক্যাটারারস’ সিন্ডিকেটের নেপথ্য গডফাদার রাজ্জাকের থলের বিড়াল এবার প্রকাশ্যে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ রেলওয়ের ক্যাটারিং সেবার আড়ালে টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট, নেপথ্যে আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় সংসদ এর আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত গুইমারায় বিএনপির ইফতার মাহফিলে জনসমুদ্র ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে গুইমারাবাসী আপসহীন গুইমারায় ‘বিডি ক্লিন’ এর ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
নোটিশ
📢 নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 📢 দৈনিক মিডিয়া বাজ পত্রিকায় জেলা, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। ✅ আগ্রহী প্রার্থীদেরকে অনুরোধ করা হচ্ছে, তাদের সম্পূর্ণ সিভি (CV) নিচের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে অথবা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতে বলফ যাচ্ছে: 📧 ই-মেইল: editor.mediabuzz@gmail.com. 📱 হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৮৯৮২৯৪২৭৪।  🔒 সতর্কতা: উল্লেখিত ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বর ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যম বা নম্বরে যোগাযোগ করলে এবং তাতে কেউ প্রতারণার শিকার হলে, দৈনিক মিডিয়া বাজ কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

রাজ্জাক সিন্ডিকেটের বিষদাঁত

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন

রেলে ভুয়া কর্মচারীর ভুতুড়ে বাজেট, ক্যাটারিংয়ের আড়ালে কোটি টাকার টিকিট ও নিয়োগ বাণিজ্য এবং নেপথ্যের মাসোহারা বাহিনী—সবই এখন সাংবাদিকের ওপর হুমকির শেষ অস্ত্র!

​প্রথম পর্বের খোলস ছাড়ানোর পর থেকেই কাঁপন ধরেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম বড় বিষফোঁড়া ‘সুরুচি ফাস্টফুড অ্যান্ড ক্যাটারারস’-এর সাম্রাজ্যে। অপরাধের সাজানো অন্ধকার জগত ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে এখন চরম মরিয়া রাজ্জাক সিন্ডিকেট। জালিয়াতি আর কালোবাজারির তথ্য ঢাকতে এবার তারা বেছে নিয়েছে চরম ধৃষ্টতার পথ—সরাসরি সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চক্রান্ত।

  • ​ম্যানেজ ব্যর্থ, অতঃপর ভুয়া পরিচয় ও হুমকি

​প্রথম পর্বে অনিয়ম প্রকাশের আগে সুরুচির ম্যানেজার খাইরুল ইসলাম আকাশ সংবাদমাধ্যমকে ‘ম্যানেজ’ করতে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হন। এরপরই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে মূল হোতা আব্দুর রাজ্জাকের আসল চেহারা। গত ১৮ জুলাই রাত ৯:৩৯ মিনিটে রাজ্জাকের নির্দেশে সাজেদুল্লাহ প্রিন্স নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে পত্রিকার প্রধান সম্পাদককে মুঠোফোনে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।

​কথোপকথনে প্রিন্স নিজেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর প্রভাবশালী সদস্য বলে দাবি করেন। তবে অনুসন্ধানী টিমের তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানে ডিইউজে-এর দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে—সাজেদুল্লাহ প্রিন্স আদতে কোনো ডিইউজে সদস্যই নন। ভুয়া পরিচয় দিয়ে ভীতি প্রদর্শন করা এবং রাজ্জাকের মতো কালোবাজারিদের ‘আইনি ও বেআইনি শেল্টার’ দেওয়াটাই তার আসল ধান্দা। অনুসন্ধানী টিমের আর্কাইভে সেই অডিও রেকর্ড এখন প্রস্তুত আইনি পদক্ষেপের জন্য।

  • ​কাগজে ৩৬, বাস্তবে ৮০: ভুতুড়ে কর্মচারীর ভুয়া বাজেট

​ক্যাটারিং সেবার নামে ‘এগারো সিন্ধু’ ও ‘কালনী এক্সপ্রেস’-এ রাজ্জাক সিন্ডিকেটের জালিয়াতির মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে সব সীমা। সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী মাত্র ৩৬ জন কর্মচারীর বাধ্যবাধকতা থাকলেও ভুয়া তালিকা বানিয়ে সেখানে দেখানো হচ্ছে ৮০ জন!

​প্রতিটি ভুতুড়ে নামের বিপরীতে রাজস্ব খাত থেকে মাসে গড়ে ১৬ হাজার টাকা করে তুলে নিচ্ছে রাজ্জাক। কিন্তু সেই টাকা সাধারণ কর্মচারীরা পান না; সিংহভাগ অর্থই সোজা চলে যায় এই চক্রের পেটে।

  • ​চাকরি বাণিজ্য ও জিম্মি যাত্রী

​রেলওয়ে শর্ত দিয়েছিল—কর্মীদের উন্নত পরিবেশ, থাকা-খাওয়া ও সঠিক বেতন দিতে হবে। বাস্তবে সেখানে চলছে দাসপ্রথা ও জবরদস্তি। ম্যানেজার খাইরুল ইসলাম আকাশ ও মজিবুর একেকজন স্টাফ নিয়োগ দিতে পকেটে পুরেছেন ১.৫ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ।

​আর এই বিপুল ঘুষের টাকা তুলতে গিয়ে ট্রেনের ভেতরেই নামানো হয়েছে চাঁদাবাজির বিষাক্ত থাবা:

​লাইন খরচের নামে জিম্মি: ট্রেনের ভেতর ‘লাইন খরচ’-এর অজুহাতে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে এই স্টাফরা।

​খোলামেলা টিকিট কালোবাজারি: ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে টিকিট ও ‘টিটিই ম্যানেজ’ করার নামে সাইদুর, মুন্না ও শাহীনরা সরাসরি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

​ডিজিটাল কারসাজি: অতিরিক্ত বগির এটেন্ডেন্ট হারুন আহমেদ আগেভাগেই স্মার্টফোনে ৪-৫টি টিকিট ব্লক করে রেখে ট্রেনের ভেতর বানিয়ে ফেলেন কৃত্রিম সংকট, তারপর চড়া দামে বিক্রি করেন আসন।

  • ​মাসোহারার ছাতায় কি পার পাবে রাজ্জাক?

​‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’—সরকারের এই স্পষ্ট নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজ্জাকের সুরুচি ফাস্টফুড কীভাবে বছরের পর বছর রেলকে নিজের ব্যক্তিগত জমিদারিতে পরিণত করল?

​রেলওয়ের মাঠ পর্যায়ের অসৎ কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই কি পার পেয়ে যাচ্ছেন রাজ্জাক ও আকাশরা? দেশের সচেতন মহল ও সাধারণ যাত্রীদের এখন একটাই দাবি—অবিলম্বে সুরুচি ফাস্টফুডের ক্যাটারিং লাইসেন্স বাতিল করে দুদক (ডিইউসিসি) ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

​(সুরুচি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে রেলের কোন কোন প্রভাবশালী কর্মকর্তা প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের মাসোহারা পান এবং কোন টেবিলে পৌঁছায় এই কালোবাজারির টাকা—সেই গোপন নথিসহ দেখতে চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *