শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন

সর্বশেষ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সিলেটের পরিচিত মুখ নওয়াব আলী হাসিব খান, রাজনীতির সীমানা পেরিয়ে মানবতার ফেরিওয়ালা নথিপত্র রিসিভ হতেই আসামির টেবিলে: বিআরটিএ-তে ‘গোপন তথ্য পাচার’ সিন্ডিকেট, এডি ইমরানের বেপরোয়া হুমকি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন রাজ্জাক সিন্ডিকেটের বিষদাঁত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ অপরাধ ঠেকাতে ভিন্ন কৌশল: রেলের ‘সুরুচি ক্যাটারারস’ সিন্ডিকেটের নেপথ্য গডফাদার রাজ্জাকের থলের বিড়াল এবার প্রকাশ্যে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ রেলওয়ের ক্যাটারিং সেবার আড়ালে টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট, নেপথ্যে আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় সংসদ এর আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
নোটিশ
📢 নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 📢 দৈনিক মিডিয়া বাজ পত্রিকায় জেলা, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। ✅ আগ্রহী প্রার্থীদেরকে অনুরোধ করা হচ্ছে, তাদের সম্পূর্ণ সিভি (CV) নিচের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে অথবা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতে বলফ যাচ্ছে: 📧 ই-মেইল: editor.mediabuzz@gmail.com. 📱 হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৮৯৮২৯৪২৭৪।  🔒 সতর্কতা: উল্লেখিত ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বর ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যম বা নম্বরে যোগাযোগ করলে এবং তাতে কেউ প্রতারণার শিকার হলে, দৈনিক মিডিয়া বাজ কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

অবৈধ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জালিয়াতি-দুর্নীতির ঝড়

সোহেল রানা, জৈষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন

বাগেরহাটের শরণখোলায় ড. মাসুম বিল্লাহ ডিএন কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ মুহাঃ মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগের ঝড় উঠেছে। জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, নারীকেলেঙ্কারি, ভুয়া সনদ ব্যবহার থেকে শুরু করে ক্ষমতার অপব্যবহার—সবকিছুতেই নাম জড়াচ্ছে তার। শিক্ষক-কর্মচারী, ট্রাস্টি এবং ভুক্তভোগীরা সরব হয়ে বলছেন, “তিনি একজন অযোগ্য, অনৈতিক ও ভুয়া সনদের ধারক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছেন।” অভিযোগে বলা হয়েছে, ইসলামের ইতিহাসে বিএ ও এমএ ডিগ্রিধারী মাহমুদুল হাসান ঘুষের মাধ্যমে অধ্যক্ষের পদ বাগিয়ে নেন—যেখানে নিয়ম অনুযায়ী একটি কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য প্রয়োজন এম.কম (ব্যবসায়) বা এমএসএস ডিগ্রি। এমনকি প্রয়োজনীয় ১০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাও তার ছিল না। ভুয়া কাগজপত্রে নিয়োগ পাওয়ার পাশাপাশি একই সময়ে দুটি একাডেমিক ডিগ্রি (ফাজিল ও বিএ অনার্স) অর্জনের মাধ্যমে আইন ভঙ্গ করেছেন তিনি।

কলেজের ২৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ২৭ জন তার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছেন। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে—

  • শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়
  • কলেজের তহবিল আত্মসাৎ
  • দানকৃত জমি দখল ও জাল দলিল তৈরি
  • শিক্ষার্থীদের ফি নিয়ে নিবন্ধন না করা
  • নথি ও রেকর্ড চুরি

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি অপরাধীদের নিয়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন। এমনকি একাধিকবার বরখাস্ত হলেও নোংরা কৌশল ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি—
“একজন ভুয়া সনদধারী প্রতারককে দুই দশক ধরে অধ্যক্ষের আসনে বসিয়ে রাখা শুধু শিক্ষার পরিবেশকে ধ্বংস করছে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

প্রতিষ্ঠাতা অর্থনীতিবিদ ড. মাসুম বিল্লাহর দানকৃত জমি ও কোটি কোটি টাকার আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত কলেজটি এখন দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিষ্ঠাতার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়েই মাহমুদুল হাসান ও তার সহযোগীরা প্রতিষ্ঠানটিকে বিতর্কিত করেছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জানান—
“ভুয়া কাগজপত্রে নিয়োগ পাওয়া এ ধরনের অযোগ্য মানুষদের কারণে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা পড়ছে ভুল হাতে। আমরা চাই দ্রুত তার নিয়োগ বাতিল করা হোক এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হোক।”

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই অভিযোগ পেয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে কপি পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *