সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার মধ্যেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয়ে চলছে চরম অনিয়ম ও তথ্য পাচারের মহোৎসব! বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ (মিরপুর)-এর বিতর্কিত সহকারী পরিচালক (এডি) শেখ ইমরানের বিরুদ্ধে লিখিত নালিশ জমা হতেই সেই গোপনীয় তথ্য মুহূর্তে পৌঁছে যাচ্ছে তার হাতে।
চেয়ারম্যান দপ্তরের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা বেষ্টনী ভেঙে কীভাবে অপরাধীর কাছে নথিপত্র ফাঁস হচ্ছে, তা নিয়ে সংস্থাটির সার্বিক স্বচ্ছতা এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে।
অভিযোগ জমা পড়ার বিষয়টি তথ্য পাচারকারীর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েই চরম বেপরোয়া আচরণ শুরু করেছেন এডি শেখ ইমরান। নিজের অপরাধ ঢাকতে ও তদন্তের পথ রুদ্ধ করতে তিনি অনুসন্ধানী কাজে যুক্ত দুই সাংবাদিক—মাহমুদুল হাসান ও রাহিমা আক্তার মুক্তাকে সরাসরি হুমকি প্রদান করেছেন।
অফিসিয়াল ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি প্রকাশ্যেই হুঙ্কার ছেড়ে বলেন—“আমার বিরুদ্ধে অডিট কিংবা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিয়ে কোন কাজ হবে না, কেউ আমার কিছুই করতে পারবে না!” চাকরির মেয়াদ শেষে অবসরে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে একজন কর্মকর্তার এমন অসৌজন্যমূলক আচরণে স্তম্ভিত ক্ষুব্ধ সেবাগ্রহীতারা।
বিআরটিএ প্রধান কার্যালয় থেকে চাঞ্চল্যকরভাবে এই স্পর্শকাতর তথ্য কীভাবে লিক হলো, তার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চেয়ারম্যান দপ্তরের কর্মী পিএ-২ রেজাউলের নাম।
গত ০২ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী নাগরিক আবদুল্লাহ আল মামুন বিআরটিএ চেয়ারম্যান এবং অডিট ও প্রশাসন শাখা বরাবর লিখিত দুটি পৃথক অভিযোগপত্র জমা দেন। এই কাগজ দুটি চেয়ারম্যানের দপ্তরে গ্রহণ করেন পিএ-২ রেজাউল।
অভিযোগপত্র জমা হওয়ার পর পরই খোদ অভিযুক্ত ইমরানের কাছে তা পৌঁছে যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, পিএ-২ রেজাউল দীর্ঘ দিন ধরে এই দপ্তরে অবস্থান করে গোপন লেনদেনের বিনিময়ে বা ব্যক্তিগত সখ্যতার খাতিরে অসাধু কর্মকর্তাদের কাছে গোপন অভিযোগপত্র পাচার করে আসছেন। তার এই তথ্য পাচারের সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি এখন সাংবাদিকদের নজরদারিতে রয়েছে।
আবদুল্লাহ আল মামুনের দাখিল করা আবেদনে বিআরটিএ মিরপুর সার্কেলের এডি ইমরানের কক্ষে বহিরাগত সিন্ডিকেটের যাতায়াত এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে কার্যালয়ের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ অবিলম্বে জব্দ ও সংরক্ষণ করার জোর দাবি জানানো হয়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এডি শেখ ইমরানের দুর্নীতির মূল খুঁটি হলো BIC মিস্ত্রি মিরাজ ঘুষের মূল হিসাবরক্ষক ফিটনেস শাখা থেকে ওঠা অবৈধ অর্থ কোথায় যাবে এবং কীভাবে বন্টন হবে—তার মূল রূপকার মিস্ত্রি মিরাজ। তাছাড়া জুনিয়রদের ওপর জুলুম ভুয়া দাপ্তরিক খরচের ভাউচার দেখিয়ে জুনিয়র কর্মকর্তাদের ফান্ড থেকে এডি শেখ ইমরানের ব্যক্তিগত বিকাশ খরচ, নাস্তা ও ক্যাফেটেরিয়ার বিল পরিশোধ করতে বাধ্য করেন এই মিরাজ।
দাপ্তরিক তথ্য পাচার এবং দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন সংবাদকর্মীরা।
তারা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যানের পিএ-২ রেজাউলসহ যে সিন্ডিকেটটি বিআরটিএ-র ভেতরে থেকে তথ্য পাচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণাদিসহ খুব শিগগিরই বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে সরাসরি লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের স্পষ্ট দাবি—অবসরে যাওয়ার সুযোগে এডি শেখ ইমরান ও তার সহযোগী মিস্ত্রি মিরাজ যেন রেহাই না পান, সেজন্য দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করে অডিট ও প্রশাসন শাখার মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করতে হবে।