বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন
ফ্যসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দাপট দেখিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে জেঁকে বসা যুগ্ম সচিব মো. সাইফুর রহমান খানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ৪-৫ বছর ধরে একই বিভাগে অবস্থান করে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে।
দফায় দফায় বদলির আদেশ হলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তিনি প্রতিবারই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে থেকে যাচ্ছেন। সর্বশেষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে বদলি করা হলেও তিনি অবমুক্ত না হয়ে আদেশ বাতিলের জন্য জোর তদবির চালাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাইফুর রহমান খান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখায় উপসচিব হিসেবে যোগদান করার পর পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হন। এরপর থেকে প্রশাসন অনুবিভাগটি দখল করে আছেন তিনি। গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তাকে এনটিআরসিএ-তে বদলি করা হলেও বর্তমান সচিব রেহানা পারভীনকে ‘ম্যানেজ’ করে সেই আদেশ বাতিল করান।
সর্বশেষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে ‘ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সদর দপ্তর স্থাপনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসন’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়। কিন্তু অদ্যাবধি তিনি বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হননি। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন অনুবিভাগটি অত্যন্ত ‘লোভনীয়’ হওয়ায় অনৈতিক সুবিধা বজায় রাখতে তিনি এই পদ ছাড়ছেন না।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন প্রশাসন, সেবা, বাজেট ও সংস্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো এই অনুবিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন। অভিযোগ উঠেছে, গত ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে সাইফুর রহমান খান বড় ধরনের নিয়োগ বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন।
সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে ইতিমধ্যে অনেক প্রার্থীর কাছ থেকে তিনি নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন সেই ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ বাস্তবায়ন করতেই তিনি বদলির আদেশ বাতিলের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মহলে জোর লবিং চালাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছে, যেখানে অনেক দক্ষ কর্মকর্তাকে নিয়মিত বদলি করা হচ্ছে, সেখানে সাইফুর রহমান খান ৪-৫ বছর ধরে একই জায়গায় ‘ঘাপটি’ মেরে থাকা রহস্যজনক। প্রশাসন অনুবিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে তিনি আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। দ্রুত তাকে অবমুক্ত করে প্রশাসনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভগের সচিব রেহানা পারভীনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।