বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
নিজেকে ‘জিরো থেকে হিরো’ হিসেবে তুলে ধরলেও এস এম সুইং সেন্টারের মালিক আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে একের পর এক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে, মেশিন আমদানির নামে লাইসেন্স দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রেই মেশিন বা টাকা কোনোটিই পাননি ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যেসব ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব রয়েছে, তারা টাকা কিংবা মেশিন ফেরত পেয়েছেন। আর যাদের কোনো প্রভাব নেই, তাদের পড়তে হয়েছে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হতে।
অনুসন্ধানে উঠে আসে ইঞ্জিনিয়ার শাহাবুদ্দিন নামে এক ব্যক্তির অভিজ্ঞতার কথা। তিনি দীর্ঘদিন আবু সুফিয়ানের মিডিয়া ও টেকনিক্যাল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। মেশিন আনার কথা বলে তাকে চট্টগ্রামে নেওয়া হলে সেখানেই শাহাবুদ্দিন বুঝতে পারেন, লাইসেন্সের আড়ালে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, লাভের অংশের টাকা চাইলে আবু সুফিয়ান তা না দিয়ে লোকজনের সামনে একটি মেশিন বুঝিয়ে দেন। পরে সেই মেশিন নিয়েই শুরু হয় নতুন নাটক। একপর্যায়ে শাহাবুদ্দিন আলাদা হয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে মেশিন চুরির অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়। ওই মামলায় তাকে জেল হাজতেও যেতে হয়।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, যাদের সামনে মেশিন বুঝিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, তারা সবাই দাবি করেছেন—এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই শাহাবুদ্দিনকে ফাঁসানো হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, যেসব ব্যবসায়ী প্রতারণার শিকার হয়ে নিজেদের পাওনা টাকা চাইতে যান, তাদের বিরুদ্ধেও হয়রানিমূলক মামলা ও অভিযোগ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা জোর দাবি জানিয়েছেন—আবু সুফিয়ানের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে, প্রতারণার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
লাইসেন্সের আড়ালে এ ধরনের প্রতারণা কতদিন চলবে—সে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
অনুসন্ধানী পর্ব ১
পর্ব ২ দেখতে চোখ রাখুন…..