দেশ বদলালেও বদলায়নি গাজীপুর জেলা পরিষদের ভেতরের চিত্র। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গত দেড় দশক ধরে চলছে এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কানামাছি খেলা। নিয়মানুযায়ী তিন বছর পর পর বদলি হওয়ার কথা থাকলেও, এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৫ থেকে শুরু করে ৩০ বছর ধরে একই চেয়ারে অনড় হয়ে বসে আছেন।
অনুসন্ধানী টিম "আড়ালের চোখ"-এর অভিযানে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই চক্রটি শুধু লুটপাটই করছে না, বরং নতুন আসা যেকোনো সৎ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)-কে ব্ল্যাকমেইল ও জিম্মি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে।

উপসহকারী প্রকৌশলী মো: রফিকুল ইসলাম: দুর্নীতির দায়ে একবার বিদায় নিলেও ২০২৪-এর শুরুতে আবারও ফিরে আসেন। কাজ—ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনকে চাপে রাখা।
সার্ভেয়ার রেজোয়ান রহমান: দীর্ঘ ৬ বছর ধরে জমি ও টঙ্গী মার্কেটের দোকান ইজারা তার নিয়ন্ত্রণে। সিইওদের ভুল বুঝিয়ে ফাইলে সই করিয়ে পরে ব্ল্যাকমেইল করাই তার মূল কারিশমা।
সাঁটলিপিকার প্লাবন আলী: ১৫ বছর ধরে একই পদে থাকা এই ব্যক্তি সিন্ডিকেটের "ইনফরমেশন গেটওয়ে", সব গোপন ফাইল তার মুঠোয়।
ড্রাইভার মাহমুদুল হাসান: ১৩ বছর ধরে গাড়ি চালানোর আড়ালে অনুদানের ফাইল পাস ও পিয়ন-ঝাড়ুদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।
রিনা আক্তার: দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই পরিষদকে নিজের ঘরবাড়ি বানিয়ে রেখেছেন।
এছাড়াও অফিস সহকারী হারুন রশীদ, ডুপ্লিকেটিং অপারেটর খোকন, দারোয়ান কালাম, পিয়ন সোনিয়া ও আল আমিনের ১৪ বছরের চক্রটির বাইরে যাওয়ার সাধ্য নেই কোনো প্রশাসনের।
প্রশাসনকে পঙ্গু করে রাখা এই সিন্ডিকেটের খুঁটির জোর আসলে কোথায়? আগামী পর্বে "আড়ালের চোখ" দেখাবে কীভাবে সিইওদের ব্ল্যাকমেইল করা হতো এবং ড্রাইভার মাহমুদুল কীভাবে অনুদানের নামে কোটি টাকা হাতিয়েছেন। চোখ রাখুন পরবর্তী প্রতিবেদনে!
সম্পাদক কর্তৃক আর এস প্রিন্টিং প্রেস, ৯২, আরামবাগ (মার্কেট), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৫/৩ পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা। মোবাইল: ০১৮৯৮২৯৪২৭৪। ই-মেইল: mediabuzz30@gmail.com.
২০২৪-২০২৫ দৈনিক মিডিয়া বাজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত