বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
সম্প্রতি একটি অনলাইন মাধ্যমে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং সংস্থার একাধিক কর্মকর্তাকে জড়িয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা একপাক্ষিক, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা মনে করছি। বিশেষ করে প্রকৌশলী মো: নিজাম উদ্দিন পাঠানকে নিয়ে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ, নির্ভরযোগ্য দলিল বা আদালত/তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করা হয়নি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত জীবন, সম্পদ, পদোন্নতি ও বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে, তার বেশিরভাগই “সূত্রের দাবি” বা “গুঞ্জন” নির্ভর। অথচ সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতি অনুযায়ী গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ, দলিল যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরা আবশ্যক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মন্তব্য চাওয়া হলেও উত্তর পাওয়া যায়নি—কিন্তু তার মানে এই নয় যে অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান, যেখানে নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নির্ধারিত নীতিমালা ও সরকারি বিধি অনুসারে পরিচালিত হয়। বড় প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, সিএজি অডিটসহ একাধিক পর্যায়ের তদারকি থাকে। কোনো প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হয়। চূড়ান্ত তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে “দুর্নীতিবাজ”, “গডফাদার” বা “রাষ্ট্রের সম্পদ লুটকারী” আখ্যা দেওয়া আইন ও নৈতিকতার পরিপন্থী।
উল্লেখিত প্রতিবেদনে কয়েকশ’ কোটি টাকার আত্মসাৎ, ঠিকাদারি যোগসাজশ ও ব্যক্তিগত সম্পদ গঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু এসব দাবির পক্ষে কোনো অডিট রিপোর্ট, দুদকের চার্জশিট, আদালতের রায় বা সরকারি তদন্তের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করা হয়নি। তদন্তাধীন বিষয়কে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করে।
এছাড়া, একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে “স্বজনপ্রীতি ও ঘুষের রাজত্ব” বলে চিহ্নিত করা সংশ্লিষ্ট হাজারো সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি অবিচার। বিচ্ছিন্ন অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়া উচিত; গণমাধ্যমের দায়িত্ব হচ্ছে তথ্যভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা, অনুমাননির্ভর রায় দেওয়া নয়।
আমরা মনে করি, যদি কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, তা যথাযথ কর্তৃপক্ষ—প্রশাসন, নিরীক্ষা সংস্থা বা দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা ন্যায়সংগত নয়।
সুতরাং, প্রকাশিত প্রতিবেদনটির একপাক্ষিক ও প্রমাণবিহীন অভিযোগের প্রতি আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে অনুরোধ করছি—বস্তুনিষ্ঠতা, তথ্য-যাচাই ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে ভারসাম্যপূর্ণ সংশোধনী প্রকাশ করতে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও ব্যক্তির সম্মান রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা