বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক আমদানিকারক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের জন্য পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি, শারীরিক হামলা এবং দামী শিল্পযন্ত্র ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
চাঁদাবাজদের অব্যাহত হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও তার পরিবার। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আবু সুফিয়ান এ ঘটনায় ঢাকার চীফ জুডিসিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সি.আর মামলা নং–৯৯১/২০২৪ (কেরানীগঞ্জ) হিসেবে দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মো. আবু সুফিয়ান একজন নিয়মিত ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদানকারী আমদানিকারক ও সরবরাহকারী ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গার্মেন্টস মেশিনারি ও এক্সেসরিজ আমদানির সঙ্গে জড়িত। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগরে অবস্থিত।
মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে মো. শাহাব উদ্দিন (পিতা–মোছলেম সিকদার), মো. সোহাগসহ আরও কয়েকজনকে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকেও আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ানের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৮ জুন ২০২৪ সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে গাড়ি থেকে একটি আমদানিকৃত এম্বোডারি সিকুয়েন্স কাটিং মেশিন নামানোর সময় অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের একপর্যায়ে এলসির মাধ্যমে আমদানিকৃত একটি এম্বোডারি মেশিন (LE No-0000320124010960, HS Code-84479000) জোরপূর্বক ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ছিনতাইকৃত মেশিনটির বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও প্রকাশ্যে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় আসামিদের গতিবিধি ও হুমকিমূলক কথাবার্তার প্রমাণও ধারণ হয়েছে বলে তিনি জানান। তার ভাষায়, “তারা বলেছে, ৫ লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল না দিলে আমাকে উঠিয়ে নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার আগেও একাধিকবার থানায় লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করা হলেও প্রভাবশালী চক্র হওয়ায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করে এবং একপর্যায়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এতে ন্যায়বিচার পেতে তাকে বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার এসআই ইউনুছ বলেন, “এম্বোডারি মেশিন নেওয়ার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।”
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আদালতের কাছে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নিয়মিত ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদানকারী একজন ব্যবসায়ীকে কেন প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির শিকার হতে হবে এবং প্রশাসনের নীরবতা কেন এই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
ঘটনাটি কেরানীগঞ্জ এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে, যা ব্যবসায়িক পরিবেশ ও আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি