সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ
“পিলার-কয়েনের নামে প্রতারণা: ব্যবসায়ী-উচ্চপদস্থরাও বঞ্চনার শিকার” বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ বন্দর: সহকারী প্রকৌশলী জালাল আহমেদ—দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও ঠিকাদারি কারসাজির নতুন মহারাজা জুড়ীতে অবৈধ স’মিল মালিকের বিদ্যুৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘুষের অভিযোগ সিরাজগঞ্জ-৪ আজাদকে প্রার্থী দিলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতবে ধানের শীষ প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ মালয়েশিয়ায় সিন্ডিকেট করতে সক্রিয় সাবেক প্রবাসী কল্যাণে মন্ত্রী বেয়াই মোশাররফের ক্যাশিয়ার দোলন ৩৩নং ওয়ার্ড আ. লীগের নেতা আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আওয়ামী নেতা শাহজালালের দৌড়-ঝাপেই বিপাকে খিলগাঁও পুবালী মার্কেটের ব্যবসায়ীরা কে জামান ওয়াশিং প্ল্যান্টের বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস সংযোগ করার অভিযোগ আনিকা ওয়াশিং প্ল্যান্টে গ্যাস লাইনের অবৈধ ‘ইন্ডাস্ট্রি কনভার্শন’ স্থানীয়রা দিচ্ছে সতর্ক বার্তা
নোটিশ
📢 নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 📢 দৈনিক মিডিয়া বাজ পত্রিকায় জেলা, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। ✅ আগ্রহী প্রার্থীদেরকে অনুরোধ করা হচ্ছে, তাদের সম্পূর্ণ সিভি (CV) নিচের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে অথবা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতে বলফ যাচ্ছে: 📧 ই-মেইল: editor.mediabuzz@gmail.com. 📱 হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৭৭৫০৯৮৬৩৮।  🔒 সতর্কতা: উল্লেখিত ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বর ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যম বা নম্বরে যোগাযোগ করলে এবং তাতে কেউ প্রতারণার শিকার হলে, দৈনিক মিডিয়া বাজ কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ বন্দর: সহকারী প্রকৌশলী জালাল আহমেদ—দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও ঠিকাদারি কারসাজির নতুন মহারাজা

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির আঁতুড়ঘর হিসেবে কুখ্যাত। প্রতিষ্ঠানটির অনেক কর্মচারী—চতুর্থ শ্রেণীর স্টাফ থেকে শুরু করে প্রকৌশলী, পরিচালক পর্যন্ত—অল্প দিনেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে উঠছেন। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে তারা বছরের পর বছর প্রধান কার্যালয়ে পোস্টিং ধরে রেখে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নিজেদের স্বার্থসাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। এই ধারাবাহিকতার অন্যতম আলোচিত নাম নারায়ণগঞ্জ বন্দর শাখার সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) জালাল আহমেদ। অভিযোগ রয়েছে—সরকারি চাকরির নিয়মভঙ্গ করে তিনি বিভিন্ন ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে নিজেই ঠিকাদারি কাজ করতেন। ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহারের বিনিময়ে নিয়মমাফিক ঠিকাদারদের ৪% কমিশন দেওয়ার কথা থাকলেও, ক্ষমতার প্রভাবে তিনি সেই কমিশন না দিয়ে উল্টো ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখাতেন।

সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দু—সহকারী প্রকৌশলী জালাল- বিভিন্ন ঠিকাদারদের বক্তব্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ বন্দর শাখার যান্ত্রিক বিভাগে জালাল আহমেদই যেন দুর্নীতির প্রধান ক্যাশিয়ার। পুরো সিন্ডিকেট থেকে ওঠা টাকা তার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে জমা হতো। দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে স্পেয়ার পার্টস বিক্রি—প্রতিটি ধাপে তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল। ওটিএম পদ্ধতিতে স্পেয়ার পার্টস বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করার পর তিনি ঠিকাদারদের লাইসেন্স ব্যবহার করে নিজেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন এবং স্বল্প রাজস্ব জমা দিয়ে স্পেয়ার পার্টস নিজেই বিক্রি করতেন। এতে সরকারের হাতে ওঠা রাজস্ব কমলেও তার ব্যক্তিগত আয় কয়েকগুণ বেড়ে যেত।

অনিয়মে গড়া বিপুল সম্পদ—বাড়ি, গাড়ি সবই বিলাসী- ঠিকাদারদের অভিযোগ—জালাল আহমেদ বহু বছর ধরে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির টাকা দিয়ে ঢাকার রায়েরবাগ ও শনিরআখড়ায় একাধিক বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেছেন। চলাফেরা করেন দামী ব্যক্তিগত গাড়িতে। প্রকাশ্যে দাপট দেখিয়ে বলেন— “বিআইডব্লিউটিএর উপর মহলকে আমি ম্যানেজ করে ফেলেছি। টাকা থাকলে দেশে আইন থাকে পকেটে।” তার এই মন্তব্যে অন্যান্য সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হতবাক।

দরপত্রে বিদেশি যন্ত্রাংশের কথা থাকলেও বাজার থেকে কেনা সস্তা মাল ব্যবহার- জাহাজ মেরামতের দরপত্রে বিদেশি যন্ত্রাংশ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, নিজেই ঠিকাদারি করে তিনি ধোলাইখাল ও নবাবপুর বাজার থেকে কমদামে যন্ত্রাংশ কিনে ব্যবহার করেছেন—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। এতে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেন— “জালাল ও তার ঘনিষ্ঠরা মূলত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেই চাপ আসে উপর থেকে।”

ঠিকাদারদের ৪% কমিশন না দিয়ে উল্টো হুমকি- বিআইডব্লিউটিএর তালিকাভুক্ত কয়েকজন ঠিকাদার জানান—প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়নে সরকারি ফি পরিশোধ করলেও কাজের সময় তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে জালাল প্রতিশ্রুত কমিশন দিতেন না। বরং তারা টাকা চাইলে হুমকি দিতেন। এক ঠিকাদার বলেন— “লাইসেন্স ব্যবহার করার আগে বলতেন কমিশন দেবেন। কাজ শেষ হওয়ার পর বিল তোলার পর আর কোনো টাকা দিতেন না।”

উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছায়া সুরক্ষা? বিগত সরকারের সময় কিছু অসাধু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার প্রশ্রয়ে জালাল আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার অনিয়ম প্রকাশ্যে চলে আসলেও কোনো বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেছে—নানা ক্ষমতাবানদের নাম ব্যবহার করে তিনি নিজের অবস্থান অটুট রাখতেন।

সংবাদকর্মীর প্রশ্নে ফোন কেটে দেন জালাল দুর্নীতির বিষয়ে জানতে সাংবাদিকরা তার কর্মস্থলে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে কল করলে সাংবাদিক পরিচয় শুনেই তিনি সংলাপ বন্ধ করে দেন। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো উত্তর দেননি। দুর্নীতির অনুসন্ধান এখনো চলছে সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) জালাল আহমেদের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, সিন্ডিকেট পরিচালনা, সরকারি নিয়মবিধি লঙ্ঘন এবং ব্যক্তিগত সম্পদবৃদ্ধির চিত্র আরও জানতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *