বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ
নরসিংদির শিবপুর চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও জালিয়াতি চক্রের প্রধান মোঃ ফারুক ও মোঃ রমজান আলী বিরুদ্ধে এক বয়োবৃদ্ধর জমি মিথ্যা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের পায়তারা অভিয়োগ প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ উৎসবমুখর আয়োজনে পালিত হলো তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক গুণীজন সংবর্ধনা কেরানীগঞ্জে চাঁদাবাজির দাপট ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, শিল্পযন্ত্র ছিনতাই, প্রাণনাশের হুমকি লাইসেন্সের আড়ালে প্রতারণা: এস এম সুইং সেন্টারে মালিক আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পঙ্গু হাসপাতালের আব্দুল কাদের ও শ্যামলীর নূর-মসজিদের রফিকুল দুই ইমাম গড়েছেন সম্পদের পাহাড় গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেনের লুটপাট সমাচার “পিলার-কয়েনের নামে প্রতারণা: ব্যবসায়ী-উচ্চপদস্থরাও বঞ্চনার শিকার” বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ বন্দর: সহকারী প্রকৌশলী জালাল আহমেদ—দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও ঠিকাদারি কারসাজির নতুন মহারাজা
নোটিশ
📢 নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 📢 দৈনিক মিডিয়া বাজ পত্রিকায় জেলা, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। ✅ আগ্রহী প্রার্থীদেরকে অনুরোধ করা হচ্ছে, তাদের সম্পূর্ণ সিভি (CV) নিচের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে অথবা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতে বলফ যাচ্ছে: 📧 ই-মেইল: editor.mediabuzz@gmail.com. 📱 হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৭৭৫০৯৮৬৩৮।  🔒 সতর্কতা: উল্লেখিত ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বর ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যম বা নম্বরে যোগাযোগ করলে এবং তাতে কেউ প্রতারণার শিকার হলে, দৈনিক মিডিয়া বাজ কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলী সাইদুর রহমানের শতকোটি টাকার সম্পদ দুর্নীতির পাহাড়ে চাপা পড়ছে দায়বদ্ধতা

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন
বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমানের সম্পদের পাহাড়

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রকল্প জালিয়াতির একাধিক অভিযোগে তিনি এখন আলোচনার শীর্ষে।

বালাশী-বাহাদুরাবাদ প্রকল্পে ১৭৫ কোটি টাকার অপচয়- ২০২১ সালের জুনে শুরু হয় গাইবান্ধার বালাশী ঘাট থেকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার নৌপথ এবং দুই পাশে টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প। প্রকল্প ব্যয় ছিল প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে নাব্য সংকটের কারণে এ নৌপথে একদিনও ফেরি চলেনি। অল্প কিছুদিন লঞ্চ চললেও সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যমুনার ওই স্থানে নৌচলাচল অব্যাহত রাখা প্রায় অসম্ভব জেনেও প্রকল্পটি নেওয়া হয়। এটি ছিল এক ধরনের ‘সচেতন অপচয়’ যেখানে জনগণের করের অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা হয় এক ‘অচল মডেল’।

ভোগাই-কংস নদী খন: কাগজে খনন, বাস্তবে দুর্নীতি- ভোগাই ও কংস নদী খননে ১৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হলেও, মাঠপর্যায়ে কার্যত কোনো খননকাজই হয়নি। দুদক তদন্ত শুরু করে এবং প্রাথমিকভাবে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পায়। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে “দুর্নীতির বিচার কি শুধুই কাগজে? বাস্তবে নয়?”

সাইদুর রহমানের সম্পদের পাহাড়: আয় বহির্ভূত ফ্ল্যাট, জমি, ব্রিক ফিল্ড- আয়কর নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, সাইদুর রহমান ভুয়া স্বর্ণ বিক্রির রসিদ দেখিয়ে প্রায় ৩৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকার আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন। এছাড়া তার রয়েছে- ঢাকার খিলগাঁও ও সিদ্ধেশ্বরীতে একাধিক ফ্ল্যাট, কুড়িগ্রামে রড-সিমেন্ট ব্যবসা, আধুনিক ব্রিক ফিল্ড, যা তার সরকারি বেতনের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অবৈধ সম্পদ অর্জনের এই চিত্র শুধু অর্থ নয়, প্রশাসনিক দুর্বলতারও একটি প্রতিচ্ছবি।

জনগণের প্রশ্ন: ব্যবস্থা কবে- নানাবিধ অভিযোগ সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিআইডব্লিউটিএ’র অভ্যন্তরীণ সুত্র বলছে—কর্তৃপক্ষ ‘তথ্য যাচাইয়ের’ নামে সময়ক্ষেপণ করছে, ফলে দুর্নীতিবাজরা পাচ্ছে সময়, সুযোগ ও সুরক্ষা।

শেষ কথা- যদি এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনই শক্ত অবস্থান না নেওয়া হয়, তাহলে এটি প্রশাসনিক সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়াবে। দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শুধু বিআইডব্লিউটিএ নয়, পুরো নৌ পরিবহন খাতই জনআস্থার বাইরে চলে যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *